LatestsNews
# কুড়িগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ৬জন গ্রেপ্তার# গাজীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় # শিরোমণি স্পোর্টিং ক্লাব আয়োজিত ৮দলীয় মিনি ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন# শৈলকুপায় অর্ধশত বছরেও আলোর মুখ দেখেনি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা!# কালীগঞ্জে পিতা হত্যার দায়ে পুত্রের যাবজ্জীবন কারাদন্ড# ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাজে মন্থর গতি’# রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় ডিঙি নৌকা ডুবে নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।# ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেলরুটে আন্তঃনগর রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে সকল প্রকার ট্রেন চলাচল বন্ধ # পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন উদ্ভাবক জামালপুরের তৌহিদুল ইসলাম।# সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষার সনদ ছাড়া গ্যাস মিলবে না গাড়িতে# প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে দেশীয় মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তাবিত বাজেটে বেশকিছু শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে।# প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মান বন্ধ রয়েছে গ্রামবাসীদের আবেদন জায়গা পুনঃনির্ধারন# মেহেরপুরের গাংনীতে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে মাদক ব্যবসায়ী নিহত# ‘নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সংহতি’ বিষয়ে আলোচনা সভা# পায়রা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দেশীয় শ্রমিকদের ক্ষোভের নেপথ্যে চীনাদের 'অকথ্য নির্যাতন'# চাঁপাইনবাবগঞ্জে মনিরুল হত্যা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড# ডিআইজি মিজানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ# খুলনা শিরোমণি বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তার-ষ্টাফদের দুই দফা দাবীতে লাগাতর কর্মসুচি শুরু# অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস হারল বাংলাদেশ# দিনাজপুরের হিলিতে দেশের প্রথম লৌহ খনির সন্ধান পাওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার| ২৫ জুন ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
# ঝিনাইদহে সেনা সদস্য হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন# নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি :দেশের প্রথম শ্রেণীর অনলাইন টিভি চ্যানেল"চ্যানেল ফোর নিউজ" যা খুব দ্রুতই স্যাটেলাইট টেলিভিশনে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে। উক্ত চ্যানেলের জন্য নিম্ন বর্ণীত বিভাগসমুহে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ১ জন করে ব্যূরো প্রধান এবং বর্ণীত বিভাগগুলোর প্রতি জেলা ও থানাসমুহে ১ জন করে জেলা ও থানা প্রতিনিধি দ্রুত ও জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিভাগসমুহ :চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা , রাজশাহী , রংপুর - অাগ্রহীগণকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতিয়তা NID, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ১ কপি ছবি ও অভিজ্ঞতার প্রমানপত্রসহ পূর্ণ জীবন বৃত্

ক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পান চাষে কৃষক হচ্ছেন সাবলম্বি, সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান




শেখ সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট:

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের   বাগেরহাট সহ   ১০ জেলায়  বহুদিন ধরে পান চাষের প্রচলন ও সুনাম আছে। যেটা বর্তমানে দিনদিন চাষবাদ ও চাষীর পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে।


পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান ও লাভবান হওয়ায় দিনদিন পান চাষ বেড়েই চলেছে। পান চাষ করে বর্তমানে অনেকেই তাদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তনে সক্ষম হয়েছে।মানুষের আতিথেয়তায় পূর্ণতা আনতে খাবার শেষে পান অন্যরকম গুরুত্ব বহন করে।

আর সে কারণে পান চাষে এ অঞ্চলের মানুষ অনেক এগিয়ে। মিষ্টি এবং ঝাল’র মিশ্রণের কারণে দেশজুড়ে রয়েছে এ অঞ্চলের পানের সুনাম। গত তিন মাস ধরে এ অঞ্চলের খুচরা বা পাইকারি মোকামগুলোতে রেকর্ডমূল্যে পান বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতিটি খিলি পান বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে দশ টাকায়। আর খুচরা বাজারে প্রতি পোন (৮০টি পান পাতা) পান বিক্রি হচ্ছে ৩শ টাকা পর্যন্ত।আমদানি কমের অজুহাতে পানের দাম বৃদ্ধি পায়, যা এখন অগ্নিরূপ ধারণ করেছে।

দুই মাস আগে যে পান পাইকারি বাজারে ৪০ টাকা বিড়া (৭২টি) বিক্রি হতো, সে পান এখন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার যে পান ৬০ টাকায় বিক্রি হতো, সে পান এখন ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দোকানিরা বিক্রির জন্য যে পান প্রতি বিড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কিনত তা এখন ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

এতে করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পানের দরও বেড়েছে ৩ থেকে ৪ গুণ। খুচরা পানের বাজারের চিত্র আরো ভয়াবহ। পাইকারি বাজারে যে পান চল্লি (৩৬ পিস) বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় তা খুচরা বাজারে প্রতি চল্লি ১০০ টাকা বা তার বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। আর বিড়া (৭২ পিস) বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা বাজারে আরো বিরূপভাবে পড়ায় ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। অনেকে এরই মধ্যে কমিয়ে দিয়েছেন পান ক্রয় করা এবং খাওয়া।

পান ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, শীত ও কুয়াশার কারণে পানের ফলনে প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষতি হয়। একদিকে পানের চাহিদা এবং অন্যদিকে যোগান কম থাকায় পানের বাজারের অস্থিরতা দেখা দেয়। যার প্রভাব পড়ে প্রায় বৈশাখ মাস পর্যন্ত।

পান চাষিরা জানান, পানের বরজে (পানের বাগান) এখন বৃষ্টির পানি প্রয়োজন। বৃষ্টি হলেই পানের দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানের যোগান কম থাকায় এ এলাকার সব থেকে বড় মোকাম শিরোমণি, ফুলতলা বাজার, সিদ্ধিপাশা বাজার, বারাকপুর বাজার এবং রূপসা কাজদিয়া বাজারের পান ব্যবসায়ীরা এখন অনেকটা বিরতি কাটাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের হিসেব মতে, খুচরা বাজারে প্রতিটি পান পাতা বিক্রি হচ্ছে ৩ টাকা ৭৫ পয়সায়।

বাগেরহাট যাত্রাপুর বাজার এলাকার পান চাষি মোঃ আবুল কালাম জানান, ভালো মানের পানের প্রতি কুড়ি (৫,১২০টি) বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, যা তিন মাস আগে ছিল ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, মাঝারি বা ছোট মানের প্রতি কুড়ি পান বিক্রি হচ্ছে ৩২শ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ৬শ টাকা।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের পাইকারি পান ব্যবসায়ী কালা সাহা বলেন, বর্তমানে যে পান বিড়াপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন, সে পানের দর ২ মাস আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আর যে পান বিড়াপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সে পান ১০০ টাকায় বিক্রি হতো। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি চাহিদা থাকলেও আমদানি কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় না কমাকে দায়ী করেন।

খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি এলাকার পান চাষি মোঃ শহিদ বিশ্বাস জানান, শীত এবং কুয়াশার কারণে পান নষ্ট হয়ে গেছে। এখনও কুয়াশা পড়ছে। তবে বৃষ্টির পানি পেলে নতুন পান গজাবে। তখন দাম কমে যাবে। এখন বরজে (পানের ক্ষেত) পান নেই। কিন্তু বাগান পরিচর্যায় খরচ কমছে না।

নগরীর জোড়াগেট মহাজের কলোনী এলাকার খুচরা পান বিক্রেতা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, বাজারে পানের দাম বাড়লেও কাস্টমার বাড়তি টাকা দিতে চায়না। চার টাকায় কেনা একটা পানে সুপারি, জর্দ্দা, চুন দিয়ে পাঁচ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছেনা। সে কারণে ভালো মানের প্রতিটি খিলি পান বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। তাতে কিছুটা খরচ পুষিয়ে যায়।

নগরীর নিউমার্কেট এলাকার মোকাররাম বিল্লাহ জানান, একটি খিলি পান এখন বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকায়। কোথাও কোথাও ১০ টাকায়। এ অঞ্চলের মানুষ অধিকাংশই পান খেতে ভালবাসে। কিন্তু দিকে কারো কোনো খেয়াল নেই।

খুলনা এলাকার পানের বড় মোকাম ফুলতলা বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. আরিফুর রহমান জানান, আমরা যেমন ক্রয় করি তার সাথে একটু লাভ রেখে বিক্রি করি। তবে এবছর একটু দাম বেশি কিন্তু তারপরও পানের মান তেমন ভাল না।

খুলনা যশোর পানচাষি সমবায় সমিতি লিমিটেড’র সভাপতি এসএম সেলিম বাচ্চু জানান, শীত এবং কুয়াশার কারণে পানের ক্ষতি হয়েছে। সেসময় প্রতিটি চাষির ৮০-৯০ শতাংশ পড় (পান গাছ) মরে গেছে।

এরমধ্যে যেসব চাষি বিভিন্নভাবে কিছু পান বাঁচাতে পেরেছে সেসব পান এখন বাজারে আসছে। যা এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

ফলে বাজারে পানের দাম আকাশচুম্বি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের করণীয় বিষয়ে আমরা এ এলাকার পানচাষিদের নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তবে এপ্রিলের মধ্যে পানের দামে স্বস্তি ফিরে আসবে।


1