LatestsNews
# প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছে চলতি মাসেই বসছে মেট্রোরেলের লাইন# সব জল্পনার অবসান সৃজিত-মিথিলার বিয়ে সন্ধ্যায়# ভুটানকে ১০ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ# সিদ্ধেশ্বরীতে হত্যার শিকার তরুণীর পরিচয় জানা গেছে মিলেছে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত# গণধর্ষণের পর পশু চিকিৎসককে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনই পুলিশের গুলিতে নিহত । # নোয়াখালী হাতিয়ায় অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার-১# অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবহেলিত ফাতেমা এখন স্বাবলম্বী# ঝিনাইদহে অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ # কালীগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৮ সদস্য আটক# প্রশিক্ষণ আমাদের জ্ঞান ও কাজের দক্ষতা বাড়ায় - উপসচিব মোহাম্মদ শওকত ওসমান# নোয়াখালীতে এলজি ও দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাত গ্রেফতার# নোয়াখালীতে প্রথমবারের মতো খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি# শ্বাসরুদ্ধকর ও সংকটময় সেই ১২ ঘণ্টা# হলি আর্টিজান মামলার ৮ আসামি আদালতে# ভারতের পুশ ইনের বিষয়টি পত্রিকায় দেখেছি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী# ছেলের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে ছুটে গেলেন মা# রংপুর জেলা আ’লীগের এক নম্বর সদস্য জয়# মূল্যবান জিনিস রেখে শুধুই পেঁয়াজ নিলো চোর, হতবাক দোকানদার# বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক অস্ত্র মজুদ করেছে মিয়ানমার!# গত ১০ বছরে লাশ হয়ে ফিরেছে ২৭ হাজার নারী কর্মী
আজ শুক্রবার| ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
# ঝিনাইদহে সেনা সদস্য হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন# নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি :দেশের প্রথম শ্রেণীর অনলাইন টিভি চ্যানেল"চ্যানেল ফোর নিউজ" যা খুব দ্রুতই স্যাটেলাইট টেলিভিশনে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে। উক্ত চ্যানেলের জন্য নিম্ন বর্ণীত বিভাগসমুহে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ১ জন করে ব্যূরো প্রধান এবং বর্ণীত বিভাগগুলোর প্রতি জেলা ও থানাসমুহে ১ জন করে জেলা ও থানা প্রতিনিধি দ্রুত ও জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিভাগসমুহ :চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা , রাজশাহী , রংপুর - অাগ্রহীগণকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতিয়তা NID, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ১ কপি ছবি ও অভিজ্ঞতার প্রমানপত্রসহ পূর্ণ জীবন বৃত্

বাকেরগঞ্জে নানা প্রতিবন্ধকতায় বিলীনের পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্প



উত্তম কুমার, বাকেরগঞ্জ :
কালের আবর্তে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বাকেরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্প। বহুমুখী সমস্যা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আজ সংকটের মুখে এ মৃৎ শিল্প। উপজেলার কলসকাঠী ও নিয়ামতি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য কুটিরের নয়নাভিরাম মৃৎ শিল্পীদের বাসস্থান। যা সহজেই যে কারোর মনকে পুলকিত করে। এক সময় এ গ্রামগুলো মৃৎ শিল্পের জন্য খুবই বিখ্যাত ছিল। ছিল মাটির তৈরি জিনিসের বহুমাত্রিক ব্যবহার। তখন এ শিল্পের প্রতি সব মহলেই কদর ছিল। কুমার সম্প্রদায়ের হাঁড়ি-পাতিল ও কলসসহ যে কোনো মৃৎশিল্প তৈরিতে প্রধান উপকরণ হচ্ছে এটেল মাটি, জ্বালানি কাঁঠ, শুকনো ঘাস ও খড়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ শিল্পের মালামাল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও সরবরাহ করা হতো। সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে কুমাররা মাটি দিয়ে তৈরি পাতিলের বোঝাই ভার নিয়ে দলে দলে ছুটে চলত প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায়। পাতিল, গামলা, কূপি বাতি, থালা, জাতা, দুধের পাত্র, ভাঁপাপিঠা তৈরির কাজে ব্যবহৃত খাঁজ, গরুর খাবার পাত্র, কুলকি, ধান-চাল রাখার বড় পাত্র, কড়াই, কূয়ার পাট, মাটির ব্যাংক, শিশুদের জন্য রকমারি নকশার পুতুল, খেলনা ও মাটির তৈরি পশুপাখি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত এবং পণ্যের বিনিময়ে ধান সংগ্রহ করে সন্ধ্যায় ধান বোঝাই ভার নিয়ে ফিরে আসত বাড়িতে। ওই সব ধান বিক্রি করে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনত। কিন্তু সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতার অভাবে আজ এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন নতুন শিল্প সামগ্রীর প্রসারের কারণে এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুকূল বাজারের অভাবে এ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। যা আমরা বাকেরগঞ্জবাসী দিন দিন হারাতে বসেছি। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নিয়োজিত মৃৎশিল্পিদের অধিকাংশ পাল সম্প্রদায়ের। প্রাচীন কাল থেকে ধর্মীয় এবং আর্থ সামাজিক কারণে মৃৎশিল্পে শ্রেণীভুক্ত সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা মৃৎশিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহন করে। বর্তমান বাজারে এখন আর আগের মতো মাটির জিনিস পত্রের চাহিদা না থাকায় এর স্থান দখল করে নিয়েছে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাষ্টিকের তৈজসপত্র। ফলে বিক্রেতারা মাটির জিনিসপত্র আগের মতো আগ্রহের সাথে নিচ্ছেনা। তাদের চাহিদা নির্ভর করে ক্রেতাদের ওপর। কিন্তু উপজেলার অঁজ পাড়াগাঁ পর্যন্ত এখন আর মাটির হাড়ি পাতিল তেমনটা চোখে পড়ে না। সে কারণে অনেক পুরোনো শিল্পিরাও পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাটির জিনিসপত্র তার পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। ফলে এ পেশায় যারা জড়িত এবং যাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মৃৎশিল্প তাদের জীবন যাপন একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দুঃখ কষ্টের মাঝে দিন কাটলেও বাকেরগঞ্জের মৃৎশিল্পীরা এখনও স্বপ্ন দেখেন। কোন একদিন আবারও কদর বাড়বে মাটির পণ্যের। সেদিন হয়তো আবারো তাদের পরিবারে ফিরে আসবে সুখ-শান্তি। আর সেই সুদিনের অপেক্ষায় আজও দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। এ ব্যাপারে নিয়ামতি ইউনিয়নের মহেশ্বপুর পালপাড়া গ্রামের  শ্রী স্বপন পাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহে অনেক খরচ করতে হয় তাদের। এ ছাড়াও জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে মিল না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। অভাব অনটনের মধ্যে ও হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে আছে। মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ঢাকনা হাট-বাজারে ভ্যানভাড়া দিয়ে হাটে আনলেও জিনিস বিক্রি হয় না। এ বিষয়ে সৈয়দ আফছার আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান মৃৎশিল্পের চলমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, মৃৎশিল্প আমাদের ঐতিহ্য, সরকার কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা প্রদান করে। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও এসব শিল্পে ঋণ সুবিধা দিয়ে আসছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বেঁচে থাকুক সরকার তা চায়। এ বিষয়ে নিয়ামতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমীন (মাসুম মাষ্টার) বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্পকর্মে প্রশিক্ষিত করে মৃৎশিল্পের সমোপযোগী জিনিসপত্র তৈরিতে এবং বিদেশে এ পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে জরুরী পদক্ষেপ প্রয়োজন। এদিকে উপজেলার সচেতন মহল ও বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে মাটির জিনিস তৈরি করে রোদে শুকিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে ব্যবহারযোগ্য করে সেগুলো জেলা-উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে, হাট-বাজারে বিক্রি করা হয়। মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এর বাজার সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরী। মৃৎশিল্পীরা সরকারের কাছ থেকে স্বল্পশর্তে ঋণ সহায়তা পেলে হয়ত এ পেশা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে তাঁরা দাবি করেন।


1