LatestsNews
# বেনাপোলে সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী নিহত# এবছর শিক্ষা খাতে বাজেটের আকার বাড়লেও তা শতাংশে কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।# পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৮ চীনা শ্রমিক আহত হয়েছেন।# দেশে ফলের উৎপাদন বাড়াতে প্রতিনিয়ত চলছে নানা গবেষণা- কৃষকদের উৎসাহিত করতে যত আয়োজন# মোবাইল ফোনে বাংলায় এসএমএস (মেসেজ) পাঠালে খরচ অর্ধেক ছাড় দেয়া হবে।# বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন সেলিমা ও টুকু# মানুষের খাদ্য তালিকার প্রাণীর এসব খাবার এ যেন মানুষ মারার কারখানা# রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটে আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।# আমিরাতে প্রথম বাংলাদেশির গোল্ডেন ভিসা অর্জন# 'মোবাইল রিচার্জে শুল্ক বাড়ানোয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা'# কামারখন্দ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল্লাহ সবুজ নির্বাচিত# লাকসামে স্কুলছাত্রী ধর্ষনের শিকার, ধর্ষনকারী গ্রেপ্তার# দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া কঠিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম।# রাজধানীতে বিশৃঙ্খলভাবে দেয়াল লিখন ও গাছে বিজ্ঞাপন লাগালে কঠোর ব্যবস্থা'# পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শেষ বা পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে এখন চলছে গণনা।# খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নির্ভর করছে আদালতের ওপর।# রাজধানীর কল্যাণপুরের রাজিয়া পেট্রোল পাম্পে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।# সালথায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র শিক্ষকদের মাঝে পুরস্কার বিতরন# ঝিনাইদহে মসজিদের মোয়াজ্জিনকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা !# অবশেষে বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে মিশরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজ নেয়া নষ্ট দুটি উড়োজাহাজ ফেরত দেয়া হচ্ছে।
আজ বুধবার| ১৯ জুন ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
# ঝিনাইদহে সেনা সদস্য হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন# নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি :দেশের প্রথম শ্রেণীর অনলাইন টিভি চ্যানেল"চ্যানেল ফোর নিউজ" যা খুব দ্রুতই স্যাটেলাইট টেলিভিশনে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে। উক্ত চ্যানেলের জন্য নিম্ন বর্ণীত বিভাগসমুহে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ১ জন করে ব্যূরো প্রধান এবং বর্ণীত বিভাগগুলোর প্রতি জেলা ও থানাসমুহে ১ জন করে জেলা ও থানা প্রতিনিধি দ্রুত ও জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিভাগসমুহ :চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা , রাজশাহী , রংপুর - অাগ্রহীগণকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতিয়তা NID, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ১ কপি ছবি ও অভিজ্ঞতার প্রমানপত্রসহ পূর্ণ জীবন বৃত্

হারিয়ে যাচ্ছে শাপলার ফল ‘ঢ্যাপ’



আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট :
বর্ষার পর পরেই বাড়ির পাশে হাওর-বাওড়, খাল, বিল ও জলাশয় গুলোতে চোখ পড়তো শাপলা ফুল। সাদা কিংবা লাল শাপলা ফুল দেখে মুগ্ধ হয় না, এমন লোক খুঁেজ পাওয়া কঠিন হবে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে হাওর-বাওড়, খাল, বিল ও জলাশয় শুকিয়ে হারিয়ে গেছে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা। আর তার সাথে সাথে বিপন্নের পথে জলাভূমির ফল ‘ঢ্যাপ’। শাপলার ফলকেই ‘ঢ্যাপ’ বলা হয়। মাঝে-মধ্যে লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামের বাজার গুলোতে ‘ঢ্যাপ’ বিক্রি করতে দেখা যায়।

জানা গেছে, শাপলা সাধারণত বদ্ধ অগভীর জলাশয়, হাওর-বাওড়, খাল-বিল অঞ্চলে জন্মে থাকে। দুই ধরনের শাপলা ফুল দেখা যায়, সাদা ও লাল। স্থানীয় ভাষায় সাদা শাপলাকে সাদা জলফল ও লাল শাপলাকে লাল বা রক্ত জলফল বলা হয়। এ শাপলা ফুল যখন আবদ্ধ জলাশয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো ফুটে থাকে তখন ওই জলাশয়ে এক অপরূপ সৌন্দযের সৃষ্টি হয়। আর এ ফুল যখন ফলে রূপান্তরিত হয় তাকে স্থানীয় ভাষায় ‘ঢ্যাপ’ বলা হয়। এ ‘ঢ্যাপ’র ভেতরে অনেক ছোট ছোট বীজ থাকে। এগুলো মানুষ উঠিয়ে নিয়ে ভেঙ্গে রোদে শুকিয়ে খই ভেজে থাকে। এ খই খুবই সুস্বাদু হয়। এ শাপলা বর্ষার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে জন্মে ও ফুল ফুটে থাকে। এ খাল-বিল ও আবদ্ধ জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানে ইরি-বোরো, আউশ, মরিচ, সরিষা, ভুট্টা, আলু, গমসহ বিভিন্ন জাতের রবিশস্য চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া আবদ্ধ জলাশয়গুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করায় এ শাপলা জন্মানোর ক্ষেত্র গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক সময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটা বিরাট অংশ শাপলা ফুলের ডাঁটার তরকারি হিসেবে খেতেন। শুধু তা-ই নয়, এই ‘ঢ্যাপ’ আমাশয়, বদহজম এবং রক্ত আমাশয় নিরাময়ের জন্য বেশ কার্যকরী বলেও প্রচলিত রয়েছে গ্রামে। শাপলার ফল বা ঢ্যাপ দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খই ভাজা হয়। যেটি গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে ‘ঢ্যাপের খই’ নামে পরিচিত। এই ঢ্যাপের মধ্যে অসংখ্য বীজদানা থাকে। এসব বীজদানা রোদে শুকিয়ে চাল তৈরি করা হয়। ঢ্যাপের পুষ্টিকর চাল থেকে তৈরি করা খই ও নাড়ু অত্যন্ত সুস্বাদু। কিন্তু ‘শাপলা ফল’ বা ‘ঢ্যাপ’ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এখন।

জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান এলাকার ঢ্যাপ বিক্রেতা সাদেকুল বয়াতী জানান, বিলে এখন স্বল্প পরিসরে শাপলা হয়। সেখান থেকেই তিনি শাপলার ফলি ও ঢ্যাপ সংগ্রহ করনে। এক হালি বা ৪ টি ঢ্যাপের মূল্য ৮-১০ টাকা। প্রতি বছর তিনি এই সময়ে এই ফল বিক্রি করেন।

হাতীবান্ধা উপজেলা সানিয়াজান এলাকার আমজাত হোসেন জানান, এক সময় এ অঞ্চলে প্রচন্ড অভাব ছিলো তখন আমরা শাপলার ‘ঢ্যাপ’ দিয়ে ভাত ও খই বানিয়ে খেতাম। কিন্তু এখন তো এইগুলো দেখাই যায় না।

লালমনিরহাট জেলায় এক সময় অসংখ্য খাল-বিল ছিল। এসব খাল-বিলে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল ফুটত। এতে পাওয়া যেত প্রচুর পরিমাণে ঢ্যাপ। কিন্তু আস্তে আস্তে ভরাট হয়ে যাচ্ছে বিল। তার সাথে সাথেও হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ। খাল-বিল ও জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো ধ্বংসই এ সুস্বাদু ঢ্যাপ বিলুপ্তি হচ্ছে বলে জেলার অনেকেই মনে করেন।

ছবি ক্যাপশন ঃ
হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা। ছবি গুলো লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ও সির্ন্দুনা এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা।


1