LatestsNews
# এডিস মশার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সফরে আসছেন উচ্চ পর্যায়ের বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল। # শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। # মেঘনা নদীর ভাঙন গাফিলতি করা সেই প্রকৌশলীকে কী শাস্তি দেওয়া হয়েছে? : প্রধানমন্ত্রী# সংসদ সদস্য না হয়েও বিলাসবহুল গাড়িতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেন মুহিত# দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির বস্তাভর্তি টাকাসহ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার# নায়াখালীতে সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ আহত ১২# পচা মাছ মজুদ ও বিক্রির দায়ে স্বপ্ন এক্সপ্রেস সুপার শপকে জরিমানা# ভারতীয় দলের ওপর হামলার শঙ্কা, পিসিবিকে মেইল# ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবার পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা# মিন্নির জামিন শুনানি, যা বললেন হাইকোর্ট# ভারতের বহুল আলোচিত ইসলামিক বক্তা ডা. জাকির নায়েক এবার মালয়েশিয়ায় নিষেধাজ্ঞার মুখে# নেত্রীকে মুক্ত করতে ব্যর্থ বিএনপি এখন বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে মন্তব্য : ওবায়দুল কাদের। # ফিল্মি স্টাইলে মেহেদিকে ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা, গ্রেফতার ৪# মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিন শাপলা তুলে লাখ টাকা আয় করে কৃষক শ্রেণীর লোকেরা# ব্যাচেলর খ্যাত সালমান খান অবশেষে বিয়ের জন্য নায়িকা পাত্রী খুঁজে পেয়েছেন# সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহত # নকশা জালিয়াতির অভিযোগে কাসেম ড্রাইসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসভীর-উল-ইসলামকে গ্রেফতার।# ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে নার্স ও স্টাফদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা# রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।# হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির বিভক্তি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আজ বুধবার| ২১ আগস্ট ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
# ঝিনাইদহে সেনা সদস্য হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন# নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি :দেশের প্রথম শ্রেণীর অনলাইন টিভি চ্যানেল"চ্যানেল ফোর নিউজ" যা খুব দ্রুতই স্যাটেলাইট টেলিভিশনে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে। উক্ত চ্যানেলের জন্য নিম্ন বর্ণীত বিভাগসমুহে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ১ জন করে ব্যূরো প্রধান এবং বর্ণীত বিভাগগুলোর প্রতি জেলা ও থানাসমুহে ১ জন করে জেলা ও থানা প্রতিনিধি দ্রুত ও জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিভাগসমুহ :চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা , রাজশাহী , রংপুর - অাগ্রহীগণকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতিয়তা NID, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ১ কপি ছবি ও অভিজ্ঞতার প্রমানপত্রসহ পূর্ণ জীবন বৃত্

রাণীনগরের আতাইকুলা গণকবর পড়ে আছে অযতœ আর অবহেলায়



সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: আত্রাই নদীর পাড়ে অবস্থিত সনাতন ধর্মী অধ্যুষিত গ্রাম আতাইকুলা। যেখানে সুখ আর দু:খ্য নিয়ে বসবাস করতো সনাতন ধর্মের মানুষ। দেশে চলছে স্বাধীন হওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী এই গ্রামে আক্রমণ করে ৫২জনকে হত্যা করে মাটিতে পুতে রাখে। শুধু স্বাধীনতার মাস এলেই আমরা এই স্থানটির কথা মনে করি। দেশের সবকিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও এখনো মুখ থুবরে পড়ে আছে আমাদের এই অহংকারের বধ্যভ’মি। দেশের এতকিছুর পরিবর্তন হলেও আজ পর্যন্ত এই বধ্যভ’মিকে নিয়ে আমাদের মাঝে কোন পরির্বতন হলো না।

নওগাঁর রাণীনগরের আতাইকুলা গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী একমাত্র ঐতিহাসিক গণকবরটিতে স্বাধীনতার ৪৬বছর পরেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মম বর্বরতার স্মৃতি হয়ে পড়ে আছে অযতœ আর অবহেলায়। কোন অজানা কারণে স্বাধীনতার ৪৬ পরও এই বধ্যভ’মিকে সংরক্ষন করা ও আধুনিক মানসম্মত স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হলো না তা কেউ বলতে পারে না।

তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলার বধ্যভ’মি কিংবা গণকবর তালিকা ভুক্ত করা হবে এবং সংস্কার করে তা আধুনিকায়ন করে সংরক্ষণ করা হবে। এজন্য প্রতিটি উপজেলার বধ্যভ’মি ও গণকবর তালিকা ভুক্তি করার জন্য উপজেলা এলজিইডি বরাবর জানানো হয়েছে বলে রাণীনগর এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা।

১৯৭১ সালের ২৫এপ্রিল পাক-হানাদার বাহিনীরা সংখ্যালঘু পরিবারের ৫২ জনকে ধরে এনে গুলি করে গর্ত করে গণকবর দিয়ে রাখে এখানে। সেই সব শহীদদের পরিবারগুলো এখন পর্যন্ত পায়নি কোন সাহায্য ও সহযোগীতা কিংবা কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। প্রাণে বেঁচে যাওয়া শহীদদের স্বজনদের হাহাকারে এখনও ভারী হয়ে আছে এখানকার আকাশ-বাতাস। চোখের সামনে নিজের সন্তান আর স্বামীকে হারানো যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে আছেন বীরাঙ্গনারা। দেশের জন্য নিজের স্বামী, সন্তান আর সম্ভ্রম উৎসর্গ করলেও আজ তারা বঞ্চিত সব কিছু থেকে। এই সব বীরঙ্গনাদের ভাগ্যে জোটেনি কোন সম্মাননা। বর্তমানে তারা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। গণকবরটি শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্মৃতি ধরে রাখার লক্ষ্যে পারিবারিক উদ্যোগে কোন রকমে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছে মাত্র।

রাণীনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিন-পশ্চিমে ছোট যমুনা নদীর তীরে মিরাট ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী আতাইকুলা পালপাড়া গ্রাম। ১৯৭১ সালে ২৫ এপ্রিল ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের নিধন করার লক্ষ্যে গ্রামবাসিরা কোন কিছু বোঝার আগেই হানাদার খানসেনা ২’শতাধিক নরপশুর একটি দল ওই দিন সকাল অনুমান ৯টার দিকে আতাইকুলা পালপাড়া গ্রামের পূর্বদিকে কুজাইল বাজারে উপস্থিত হয়ে পাকিস্তানের পতাকা হাতে নিয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়। অবস্থা দেখে ওই গ্রামের কিছু লোক নদীর পশ্চিম তীর থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও হানাদার বাহিনীর সহযোগী স্থানীয় রাজাকার আলবদররা তাদেরকে বাঁধা দেয়। পাক-বাহিনীরা নদী পার হয়ে এসে পালপাড়া গ্রাম চার দিকে ঘিরে ফেলে। সারা গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ওই গ্রামের যগেশ্বর পালের বৈঠকখানার আঙ্গিনায় একত্রিত করে পাক-হানাদা বাহিনী। এরপর শুরু হয় পাক-সেনাদের বর্বর নির্যাতন। সারাদিন ধরে চলে ঘরে ঘরে হত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষন অগ্নিসংযোগসহ। বিকেল ৪টার দিকে তারা গ্রাম ত্যাগ করার আগে ওই বৈঠকখানার আঙ্গিনায় বন্দীদের ওপর চালায় মেশিনগানের ব্রাশফায়ার। গুলিতে শ্রী গবিন্দ্রনাথ চরন পাল, জগেনন্দ্রনাথ, শুরেশ্বর পাল ও তার ছেলে প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার পাল, শুনিল কুমার পালসহ ৫২জন শহীদ হোন। প্রানে রক্ষাপায় শ্রী সুনীল চন্দ্র পাল, সাধন চন্দ্র পাল। স্বাধীনতার ৪৬বছর অতবিাহিত হলেও শহীদ পরিবারের খোঁজ-খবরসহ এখানকার গণকবরের উন্নয়নে কেউ ভূমিকা রাখেনি। এলাকাবাসীর দাবি শেষ সময় হলেও শহীদদের সহ তাদের পরিবারকে সরকারি স্বীকৃতি দেয়া ও গণকবরটি সংরক্ষন করা হোক।

আতাইকুলা বধ্যভ’মি সংরক্ষণের উদ্যোক্তা প্রদ্যুৎ কুমার পাল জানান, দেশ স্বাধীনের পর কত সরকার, মন্ত্রী ও এমপি এলো কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় এখানে যে ৫২জন সংখ্যালঘুদের নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করে মাটির নিচে পুতে রাখলো তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে কেউ কখনও এগিয়ে আসেনি। সাহয্যের বার্তা নিয়ে কেউ কখনো এগিয়ে আসেনি চোখের সামনে স্বামী-সন্তান হারা পাক-হানাদারদের হাতে নির্যাতিত বীরঙ্গনাদের কাছে। কেই কোন খোঁজ খবরও নেয়নি এই গ্রামের ৯ বীরঙ্গনাদের।

তিনি আরো জানান, এখানে আমার চোখের সামনে আমার বাবা-ভাইকে পাক-বাহিনীদের করা গুলিতে ধুকে ধুকে মরতে দেখেছি। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমি এবং আমার পরিবার আজো মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সম্মান পায়নি। এই বধ্যভ’মিকে সংস্কার করে সংরক্ষণ করার দাবী নিয়ে কত এমপি’র কাছে ধর্না দিয়েছি কিন্তু কিছুই পায়নি তাদের কাছ থেকে। আমরা সংখ্যালঘু বলেই কি আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে সবকিছু থেকে? তাই বর্তমান সরকার যে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা যেন অচিরেই বাস্তবায়ন করা হয় এটিই আমার জীবনের শেষ চাওয়া। এমন করে বধ্যভ’মিটি যেন সংস্কার করা যেন এই গ্রামের ৫২ শহীদদের রক্তে রাঙ্গানো এই বধ্যভ’মিটি যুগ যুগ ধরে কালের সাক্ষী হয়ে থাকে এবং আগামী প্রজন্ম যেন দেখেই বুঝতে পারে এটি শহীদদের গণকবর।

রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান মিঞা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সমূহ বধ্যভূমি/গণকবর সংরক্ষনের নিমিতে আতাইকুলা গণকবরের সংরক্ষন ও উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা পেলেই গণকবরটি উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


1