LatestsNews
# অবশেষে বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে মিশরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজ নেয়া নষ্ট দুটি উড়োজাহাজ ফেরত দেয়া হচ্ছে।# শুধু সেমির আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্যই নয়, দলের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য জয়ই দরকার ছিল# রাজশাহীতে জমে উঠেছে হরেক রকম আমের বেচাকেনা।# রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ বলে দায় স্বীকার করেছে জাতিসংঘ।# ২৩ উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে# নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতীতে ভোট গ্রহণ # নোয়াখালীর হাতিয়ায় অস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ জলদস্যু ফরিদ কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড# বেনাপোলে হুন্ডি করে অর্থ পাচারের অভিযোগে ৩ পুলিশ ক্লোজড # নড়াইলে শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যার হুমকিতে ৪ জনের নামে মামলা দায়ের# ভিসা ছাড়াই ব্রাজিল যেতে পারবেন চার দেশের পর্যটক# এমপি হারুনের স্ত্রীর প্লট বাতিল নিয়ে সংসদে হাসির রোল# বগুড়ায় জালিয়াতি করতে ইভিএমে ভোট নিতে চায় কমিশন: রিজভী# বাজেট যথাযথভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হয়েছে বলেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।# ওসি মোয়াজ্জেমকে হত্যা মামলার আসামি করার আবেদন করা হবে’# খাওয়ার মসলা দিয়ে তৈরি হচ্ছে হার্টের ব্যথানাশক ক্যাপসুল!# নোয়াখালী উপজেলা নির্বাচন, ১৩১ কেন্দ্রেই হবে ইভিএম-এ ভোট, # ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল ৬ তরুনী# চুনারুঘাটে করাঙ্গী নদীর বাধঁ ভেঙ্গে সাত / আটটি গ্রাম প্লাবিত# যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা# বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও শান্তির প্রতীক মোহাম্মদ নাসিম
আজ মঙ্গলবার| ১৮ জুন ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ
# ঝিনাইদহে সেনা সদস্য হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন# নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি :দেশের প্রথম শ্রেণীর অনলাইন টিভি চ্যানেল"চ্যানেল ফোর নিউজ" যা খুব দ্রুতই স্যাটেলাইট টেলিভিশনে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে। উক্ত চ্যানেলের জন্য নিম্ন বর্ণীত বিভাগসমুহে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ১ জন করে ব্যূরো প্রধান এবং বর্ণীত বিভাগগুলোর প্রতি জেলা ও থানাসমুহে ১ জন করে জেলা ও থানা প্রতিনিধি দ্রুত ও জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিভাগসমুহ :চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা , রাজশাহী , রংপুর - অাগ্রহীগণকে শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতিয়তা NID, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ১ কপি ছবি ও অভিজ্ঞতার প্রমানপত্রসহ পূর্ণ জীবন বৃত্

পাউবো’র নতুন প্রকল্প দাখিলের সাড়ে ৮ বছর এখানে দু’যুগ ধরে চলছে না অফিস \ সবই বেহাল দশায়



সাহারুল হক সাচ্চু, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি 4TV 

উত্তরাঞ্চলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি প্রকল্প প্রায় সাড়ে ৮ বছর দাখিলেই আটকে আছে। প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নে পাউবোর বিভাগীয় কার্যালয়টি আবারও পুনঃস্থাপন করা হবে বলে জানা যায়। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে দু’জেলার প্রায় ৩০ লাখ জনবসতি আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। উল­াপাড়া পাউবোর বর্তমান হাল হকিকত থেকে এ সবই মিলেছে।  

এদিকে প্রায় ২৮ বছর আগে উল­াপাড়ায় পাউবোর একটি বিভাগীয় অফিস ছিল। বর্তমানে অফিস ঠিকানা ঠিকই আছে। তবে এটি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দফতরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ নামে চলছে। এ অফিসের ঠিকানায় কার্যক্রম চলছে। বিভিন্ন ছোটখাটো প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। তবে বাস্তবে এখানে অফিসটি চলছে না। কোন অফিসিয়াল(দাফতরিক) কার্যক্রম এখানে হচ্ছে না। এ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারি মিলে ১২ জনের কেউ এখানে অফিস করেন না। এভাবেই দু’যুগের বেশি সময় ধরে চলছে। এর একমাত্র কারণ এখানে অফিস করার মত কোন অবস্থা কিংবা পরিবেশ নেই। সরকারি এ অফিসের বিভিন্ন অবকাঠামোর সবই বেহাল দশায় আছে। এরই মধ্যে দরজা জানালা খোয়া গেছে। ভবনগুলো ভাঙ্গাচোড়া আর বিধ্বস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় দু’একরের গোটা এলাকা বন বাদাড়ে ভরপুর হয়ে আছে। সব মিলিয়ে পৌর এলাকার পাউবোর অফিসটি পরিত্যক্ত ভূতুড়ে জায়গা হয়েছে। 

জানা যায় বিগত ১৯৭৮ সালে উল­াপাড়ার পৌর এলাকার ঝিকিড়া মহল­ায় (বাখুঁয়া) পাউবোর একটি বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়। এ অফিসের প্রায় ২ একর জায়গা বর্তমানে বাজার দরে প্রায় ২ কোটি টাকা হবে বলে হিসাব মেলে। এখানে পাকা ও আধা পাকা মিলে বড় ধরনের ৪টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে দোতলা একটি ও একটি একতলা পাকা ভবন রয়েছে। এছাড়া বড় মাপের পাকা গোডাউন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ আছে। এ অফিস স্থাপনের পেছনে জমি সম্পদসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে সরকারের মোটা অংকের টাকা ব্যয় হয়েছে। 

উল­াপাড়ার পাউবোর অফিসটি স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার ৭ উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রæত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং পরবর্তীতে এর সুষ্ঠ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করা বলে জানা যায়। উপজেলাগুলো হলো- উল­াপাড়া, শাহজাদপুর, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর। সিরাজগঞ্জ সমন্বিত পল­ী উন্নয়ন প্রকল্পের (এসআইআরডিপি) আওতায় ইফাদ সাহায্যপুষ্ট এ প্রকল্পে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা প্রদান ব্যবস্থা ছিল। এর মধ্যে প্রকল্প এলাকায় বাঘাবাড়ি থেকে নিমাইচরা পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনে ২৪টি ফার্ম ইনলেট নির্মাণ, নদ-নদীতে স্লুইচ গেট নির্মাণ সহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির কার্যক্রম চলাকালে শাহাজাদপুরের বাঘাবাড়ির কাছাকাছি রাউতারা এলাকায় ফি বছর বাঁধ ভাঙ্গন দেখা দেয়। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মূল বাঁধা চিহ্নিত করে এর সমাধানের নতুন করে আরও কয়েকটি বাঁধসহ অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন জানিয়ে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয় বলে জানা যায়। সেখানে এর বাস্তবায়নের আগেই বিগত ১৯৯১ সালে প্রকল্পটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর উল­াপাড়ার বিভাগীয় কার্যালয়টি বিভিন্ন কারণে গুটিয়ে নেওয়া হয়। এটি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দফতর হয়ে তখন থেকে নামমাত্র বছর দুয়েক চলে। এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের পাউবোর অফিস থেকেই উল­াপাড়ার পাউবোর আওতায় এলাকায় বিভিন্ন ছোটখাটো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হয়ে আসছে। সেখান থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করা হয়। উল­াপাড়ার পাউবোর কার্যালয়ে বর্তমানে একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পদে মোট ১২ জন আছেন। এর মধ্যে শাখা কর্মকর্তা ২ জন, কার্য সহকারী ৪ জন, হিসাব করণিক ১ জন, ডাটা এন্ট্রি বিভাগে ১ জন ও ৩ জন অফিস সহায়ক পদে আছেন। উল­াপাড়া অফিসটিতে ৪র্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী থেকে দেখাশোনা করেন। এ অফিসের আওতায় ছোটখাটো নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ আগে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার হয়ে আসছে। এদিকে পুরানো প্রকল্পে নির্মিত বিভিন্ন অবকাঠামোর অনেক কিছুরই ক্ষতি হয়ে গেছে। বিভিন্ন নদীতে পানি নিষ্কাশনে নির্মিত স্লুইচ গেট গুলো পাকা স্থাপনা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর দু’পাশের মাটি অনেক আগেই ধসে গেছে। উল­াপাড়ার পাউবোর আওতায় অতি স¤প্রতি সোনতলা এলাকায় করতোয়া নদী খনন ও নদী তীর সংরক্ষণ এবং ঘাটিনা পালপাড়া, এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রাম ও বড়হর নবান্নপাড়া এলাকায় নদী তীর সংরক্ষণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ৪৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে বলে জানা যায়। 

জানা গেছে, বিগত ২০১১ সালে উল­াপাড়ার পাউবোর আওতায় প্রকল্প সীমা এলাকা চিহ্নিত করে প্রায় ৩শ ৩৬ কোটি ৩১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে নতুন একটি প্রকল্প পাউবোর উর্ধ্বতন বিভাগে দাখিল করা হয়েছে। এতে প্রকল্প এলাকার ৪ হাজার ৫শ ৬০ হেক্টর জমি চিহ্নিত করে বিভিন্ন ফসলের সুষ্ঠ আবাদ, নিরাপদ গোচারণ ভূমি সহ বিপুল জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে জনকল্যাণকর প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয় বলে জানা যায়। প্রকল্পটি দু’টি জেলার ৭ উপজেলার প্রায় ৩০ লাখ জনবসতির আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক একটি প্রকল্প বলে জানা যায়।

উল­াপাড়ার পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় সাড়ে ৮ বছর আগে হাতে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারীর ক্ষমতায়ন ও বিপুল জনগোষ্ঠী আর্থিক সামাজিক অবস্থার ব্যপক উন্নয়ন ঘটবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ হলে উল­াপাড়ায় পাউবোর বিভাগীয় কার্যালয়টি সহজেই পুনঃস্থাপন হবে বলে জানান। তবে প্রকল্পটি দাখিলের পর তা ওই অবস্থাতেই রয়েছে বলে জানা যায়।   এছাড়া উল­াপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর উৎস মুখ থেকে বড়াল নদী পর্যন্ত নদী পুনঃখননে অবাধ পানি প্রবাহ, মৎস্য চাষসহ নদী পথে পণ্যবাহী নৌযান গুলোর সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও গড়ে উঠবে। তিনি আরও জানান, উল­াপাড়ায় অফিস করার মত কোন পরিবেশ নেই। এটি পরিত্যাক্ত হয়ে অছে। এ অফিসটি ফের চালুতে বিগত সময় বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা আর হয়নি।  

 


1